নিজস্ব প্রতিবেদক
ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে দেশজুড়ে তিন মাসের জাতীয় পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিরোধ অভিযান শুরু হচ্ছে। ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’ নামে এ কর্মসূচি চলবে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থেকে কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গত বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর সংক্রমণের ঝুঁকি সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে সবচেয়ে বেশি থাকায় এই তিন মাসকে সামনে রেখে বিশেষভাবে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামীকাল প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের সময় দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬৪টি জেলা প্রশাসন ও ৫০৩টি উপজেলা প্রশাসনেও একযোগে কর্মসূচি পরিচালিত হবে। এ কাজে স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, বিএনসিসি, গার্লস গাইড, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের স্বেচ্ছাসেবকসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অংশ নেবে।
কর্মসূচির আওতায় সপ্তাহের প্রতি শনিবার জাতীয়ভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো প্রতিদিন স্থানীয় পর্যায়ে কার্যক্রম চালাবে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন। এ সময়ে মারা গেছেন ১৩০ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩ হাজার ২১৮ জন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী তিন মাসে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ এবং এডিস মশার লার্ভার উৎস বেশি পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি সংসদে জানান।
বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, নির্মাণাধীন স্থাপনা কিংবা আশপাশে জমে থাকা পানি ও আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ, জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
উপজেলা হাসপাতালেও প্রস্তুতি
ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ার আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও উপজেলাগুলোর হাসপাতালগুলোতেও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পাঁচটি করে শয্যা প্রস্তুত রাখার কথা জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন পর্যাপ্ত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। রোগী থেকে মশার মাধ্যমে নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে হাসপাতালে মশারির ব্যবস্থাও করা হবে।
সরকারের প্রত্যাশা, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর—ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ এই তিন মাসে সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা, মশা নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা গেলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
তথ্যসূত্র: জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ও এনটিভির প্রকাশিত প্রতিবেদন।
✍️ মন্তব্য লিখুন