যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়া ও লেখার দক্ষতা নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। নতুন শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় দিনেই একটি সাধারণ পড়া-লেখার অনুশীলনে অনেক শিক্ষার্থী ন্যূনতম কাজটুকুও করতে না পারায় আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক দারিয়াস উইলিয়ামস। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
হিউস্টন ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের (HISD) হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ওই শিক্ষক একটি সহজ অনুশীলন করছিলেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের দুটি অনুচ্ছেদ পড়ে একটি প্রায় সম্পূর্ণ বাক্যের শূন্যস্থান পূরণ করতে বলা হয়। কিন্তু ১৭ থেকে ১৮ বছর বয়সী অনেক শিক্ষার্থী চারটি অনুপস্থিত শব্দও লিখে বাক্যটি সম্পূর্ণ করতে পারেনি।
শিক্ষক জানান, তিনি শিক্ষার্থীদের কাজটি বোঝাতে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেন। এমনকি প্রয়োজনীয় তথ্য ও উত্তর বোর্ডে লিখে দেওয়ার পরও অনেকে কাজটি শেষ করতে পারেনি। পরিস্থিতি দেখে তিনি শ্রেণিকক্ষেই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ঘটনাটি হিউস্টনের Wheatley High School-এ ঘটেছে। বিদ্যালয়টি হিউস্টনের Fifth Ward এলাকায় অবস্থিত। অতীতে দীর্ঘ সময় দুর্বল শিক্ষাগত ফলাফলের কারণে প্রতিষ্ঠানটি রাজ্য সরকারের বিশেষ নজরদারিতেও ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যালয়ের ফলাফলে উন্নতি হলেও শিক্ষার্থীদের পাঠদক্ষতা নিয়ে এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের এই দুর্বলতা শুধু একটি বিদ্যালয়ের সমস্যা নয়—যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কিশোর-কিশোরীদের পড়ার দক্ষতা কমে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উদ্বেগ বাড়ছে। হিউস্টনেও পাঠদক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন সংস্কার ও বিনিয়োগ করা হলেও বড় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মৌলিক সাক্ষরতার ঘাটতি পুরোপুরি কাটেনি।
শিক্ষক উইলিয়ামসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কেউ তাঁর উদ্বেগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, আবার কেউ তাঁর যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। পরে তিনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও শিক্ষকতার বিভিন্ন সনদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।
শিক্ষাবিদদের কাছে ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—শিক্ষার্থীরা যখন উচ্চবিদ্যালয়ের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেও মৌলিক পড়া ও লেখার দক্ষতা অর্জন করতে পারে না, তখন সমস্যাটি কেবল শিক্ষার্থীর নয়; এর পেছনে বিদ্যালয়, পরিবার, পাঠ্যক্রম, শিক্ষণপদ্ধতি এবং দীর্ঘদিনের শেখার ঘাটতি—সবকিছুর ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
✍️ মন্তব্য লিখুন