নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ১ জুলাই ২০২৬
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় এখনো প্রায় ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। যদিও তিস্তা নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে, তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে নদীভাঙনের আশঙ্কা ও দুর্ভোগ বেড়েছে।
পানিবন্দি জেলার মধ্যে রয়েছে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী। এসব জেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বহু পরিবার এখনো নিরাপদ আশ্রয়ের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে। গ্রামীণ সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত দুই দিনে নদীভাঙনে অন্তত ৬৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট, গবাদিপশুর খাদ্যাভাব এবং আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার এখনো রান্না ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করতে পারছে না। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম চালালেও দুর্গত মানুষের চাহিদার তুলনায় তা অপর্যাপ্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উজানের ঢল ও অতিবৃষ্টির ঘটনা বাড়ছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের নদীভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি হয়ে উঠেছে।
এদিকে, আবহাওয়া ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে কি না।
✍️ মন্তব্য লিখুন