কুষ্টিয়া সংবাদদাতা
কুষ্টিয়ার সদর উপজেলায় একটি রিভলভার ও ছয় রাউন্ড গুলিসহ এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেওয়ার পর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের কাবিল মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক যুবকের নাম ফরিদ হোসেন (৩৫)। তিনি হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের নদীরকুল মাঠপাড়া এলাকার মৃত বুড়ো মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ফরিদের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে তল্লাশি চালায়। এ সময় তার কাছে একটি সচল রিভলভার ও ছয় রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। পরে খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
স্থানীয়দের দাবি, ফরিদ এলাকায় কথিত ‘শিপন বাহিনী’র সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। তার কাছে আরও অবৈধ অস্ত্র থাকতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অস্ত্র ও গুলিসহ আটক যুবককে স্থানীয়রা মারধর করেছে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অপরাধের অভিযোগ থাকলেও গণপিটুনি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করাই সভ্য সমাজের পথ।
✍️ মন্তব্য লিখুন