ঢাকা, ২৪ মার্চ ২০২৬: গণ-অভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহিদদের সন্তান এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ‘জুলাই’ শিক্ষার্থী যোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও আলোচনাসভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
সভায় মন্ত্রী শিক্ষা খাতে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে আধুনিকায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
এ ছাড়া বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও জুতা (কেডস) বিতরণ, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ঋণ সুবিধা এবং হাফেজে কুরআনদের সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণের জট দ্রুত নিরসন এবং প্রয়োজনে একাধিক শিফটে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন। জাতীয়করণকৃত ৫০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সি শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার কথা বলেন মন্ত্রী।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় মোট দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও কেডস বিতরণ করা হবে। পরে তা পর্যায়ক্রমে সারাদেশের সব প্রাথমিক শিক্ষার্থীর মধ্যে সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে এক বছরের মধ্যে প্রাথমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের হাতে ট্যাব সরবরাহের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উপজেলা পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াড চালু, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং বিতর্ক ক্লাব গঠনের সিদ্ধান্তও সভায় গৃহীত হয়। এ পদক্ষেপগুলোকে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিষয়টি এখনো মূলত নীতিগত নির্দেশনার পর্যায়ে রয়েছে। এ সুবিধা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, কারা যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে, কোন প্রক্রিয়ায় উপকারভোগী নির্বাচন হবে এবং অবৈতনিক শিক্ষার আর্থিক কাঠামো কী হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা বা প্রজ্ঞাপন এখনো প্রকাশিত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সংবাদসূত্রগুলোতে উল্লেখ নেই। তাই পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা, পরিপত্র বা গেজেট প্রকাশের পর এ বিষয়ে আরও স্পষ্টতা পাওয়া যাবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন