নিজস্ব প্রতিবেদক
রেলযাত্রীদের সেবার মান বাড়াতে দেশের তিনটি আন্তনগর ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনকালে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এ তথ্য জানান। একই সময়ে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) উদ্যোগে কয়েকটি জনপ্রিয় আন্তনগর ট্রেনে পরীক্ষামূলক ফ্রি ইন্টারনেট চালুর তথ্যও সামনে এসেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেল ভ্রমণে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন ঘটাতে সরকার কাজ করছে। যাত্রীদের ভ্রমণকে আরও স্বস্তিদায়ক ও সময়োপযোগী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুরুতে সীমিত পরিসরে সেবা চালু হবে; পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে ধাপে ধাপে অন্যান্য আন্তনগর ট্রেনেও তা সম্প্রসারণ করা হবে।
প্রথম আলোতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে পর্যটক এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেসে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করা হয়েছে। এ সেবায় বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে সহযোগিতা করছে বিএসসিএল। খবরে এটিও উল্লেখ করা হয়, চলন্ত ট্রেনে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে স্টারলিংকভিত্তিক সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘ ভ্রমণে যাত্রীদের বড় একটি চাহিদা এখন নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ। চলন্ত ট্রেনে মোবাইল নেটওয়ার্ক অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ায় যোগাযোগ ও অনলাইন সেবা ব্যবহারে অসুবিধা হয়। নতুন এই উদ্যোগ সফল হলে যাত্রীসেবায় তা দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারে—এমনটাই সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা। এই অংশটি বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণধর্মীভাবে বলা হচ্ছে।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের রেলযাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানিয়েছেন রেল প্রতিমন্ত্রী। চট্টগ্রাম স্টেশন পরিদর্শনের সময় তিনি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা শোনেন। পরে সাংবাদিকদের বলেন, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সারা দেশে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে; বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় বা ব্যাপক ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি। কোথাও কোথাও সামান্য বিলম্ব হলেও তা দ্রুত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।
টিকিট কালোবাজারি রোধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, টিকিট জালিয়াতি বা কালোবাজারির সঙ্গে রেলওয়ের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা বাইরের কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
রেলের আধুনিকায়ন, সময়নিষ্ঠ সেবা এবং যাত্রীবান্ধব সুবিধা বাড়ানোর আলোচনা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা চালুর এই উদ্যোগকে যাত্রীসেবায় নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পরীক্ষামূলক ধাপ শেষে সেবার মান, গতি, কাভারেজ এবং বাস্তব ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা কেমন হয়, সেটিই পরবর্তী সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। 
✍️ মন্তব্য লিখুন