![]()
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা
কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তের সন্দেহজনক যেকোনো তৎপরতা দ্রুত বিজিবিকে জানানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা রক্ষায় স্থানীয়দের সহযোগিতা চেয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
সাম্প্রতিক সময়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে পুশইনের একাধিক চেষ্টা ঘিরে সতর্কতা বাড়িয়েছে বিজিবি। এসব ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্ত এলাকায় নজরদারিতে সহযোগিতা করছেন।
জানা গেছে, গত জুনে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধের মুখে ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকও হয়।
এর আগে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তের কয়েকটি এলাকায় পুশইনের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ করার খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনার পর সীমান্তে টহল, মাইকিং ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। সম্ভাব্য পুশইন পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের কথাও জানিয়েছিল বিজিবি।
৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তে দিন-রাত টহল ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন মেনে নেওয়া হবে না।
শুধু পুশইন নয়, সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালান, মানবপাচারসহ অন্যান্য অপরাধ ঠেকাতেও স্থানীয়দের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে বিজিবি। বিভিন্ন এলাকায় গ্রামবাসীরা পালাক্রমে সীমান্তে নজরদারিতে অংশ নিচ্ছেন। এতে সন্দেহজনক গতিবিধি দ্রুত শনাক্ত করা সহজ হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিজিবির কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সচেতনতা ও দ্রুত তথ্য দেওয়ার প্রবণতা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে স্থানীয়দের নিজেরা আইন হাতে না নিয়ে দ্রুত বিজিবিকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন