জয়পুরহাট সংবাদদাতা
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থামাতে পারেনি পড়াশোনার পথ। ডান হাতের পরিবর্তে বাম হাতে লিখেই পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে জয়পুরহাটের এক মেধাবী শিক্ষার্থী। ভালো ফলাফলের পর এখন তার চোখ উচ্চশিক্ষার দিকে। স্বপ্ন—ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অনটন সেই স্বপ্ন পূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা চালিয়ে আসছে শিক্ষার্থীটি। অন্যদের তুলনায় লেখার ক্ষেত্রে বাড়তি সময় ও পরিশ্রম করতে হলেও সে কখনো পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে যায়নি। নিয়মিত অধ্যবসায়, পরিবারের সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় পরীক্ষায় ভালো ফল করার সুযোগ পেয়েছে।
জিপিএ-৫ পাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে আনন্দের পাশাপাশি সামনে এসেছে উচ্চশিক্ষার খরচের চিন্তা। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনার জন্য ভর্তি, বই, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য শিক্ষাব্যয়ের অর্থ জোগাড় করা পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীটির স্বপ্ন, সুযোগ পেলে উচ্চশিক্ষা শেষ করে একজন প্রকৌশলী হবে। নিজের মতো শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হওয়া অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হতে চায় সে। তার বিশ্বাস, সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে শারীরিক সীমাবদ্ধতা কিংবা আর্থিক সংকট কোনো কিছুই স্বপ্ন পূরণের পথে স্থায়ী বাধা হতে পারে না।
শিক্ষকদের ভাষ্য, ভালো ফল করা মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় টিকে থাকতে আর্থিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে যারা শিক্ষাজীবনে এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের জন্য বৃত্তি ও সহায়তার সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীটির পরিবারের প্রত্যাশা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি কিংবা সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে তার উচ্চশিক্ষার পথ সহজ হবে। মেধা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে যে শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে একটি বড় বাধা অতিক্রম করেছে, অর্থের অভাবে যেন তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন থেমে না যায়—এটাই এখন পরিবারের প্রধান চাওয়া।
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাবৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এমন শিক্ষার্থীদের সহায়তার সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা উদ্যোগ নিলে শিক্ষার্থীটির মতো মেধাবীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে একদিকে একটি পরিবারের স্বপ্ন পূরণ হবে, অন্যদিকে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নেও যুক্ত হবে একজন সম্ভাবনাময় তরুণ।
**সম্পাদনা নোট:** প্রকাশের আগে শিক্ষার্থীর **নাম, বয়স, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এসএসসি/সমমানের ফল, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার ধরন, পরিবারের পেশা ও আর্থিক অবস্থা এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির বর্তমান অবস্থা** সরাসরি শিক্ষার্থী/পরিবার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যাচাই করা উচিত।
✍️ মন্তব্য লিখুন