ঢাকা, ৭ এপ্রিল ২০২৬: ভোলার এক নারী কর্মীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় জাতীয় সংসদে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রফিকুল ইসলাম খান সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিয়ে ওই নারীর মুক্তি দাবি করেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি বলেন, ভোলার পৌরসভা মহিলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বিবি সাওদা (৩৭)-কে ‘ওপরের নির্দেশে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। “ওপরের নির্দেশ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে”—এ প্রশ্ন তুলে তিনি বিষয়টির স্বচ্ছতা দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, “মাননীয় স্পিকারের মাধ্যমে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, আজ অফিস সময়ের মধ্যেই তাকে মুক্তি দিতে হবে এবং মামলাও প্রত্যাহার করতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের গ্রেপ্তার গণতান্ত্রিক পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
এ বিষয়ে সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা বিষয়টি তার নজরে এনেছেন এবং তা সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে সংসদে আল্টিমেটাম দেওয়ার বিষয়ে তিনি আপত্তি জানান।
স্পিকার বলেন, “সংসদের কার্যপ্রণালী অনুযায়ী প্রয়োজন হলে বিষয়টি প্রস্তাব আকারে আনতে হবে। রাজপথের মতো করে সংসদে আল্টিমেটাম দেওয়া যায় না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন নানা মন্তব্য করা হলেও সব বিষয় সংসদে বিবেচনায় নেওয়া সম্ভব নয়।
তবে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত রোববার (৫ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে নিজ বাসা থেকে বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেল সংকট নিয়ে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেছিলেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
বিশেষ করে, তার তিন বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী সন্তানের বিষয়টি সামনে আসায় অনেকেই গ্রেপ্তারকে অমানবিক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন