পঞ্চগড় প্রতিনিধি
ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন এবং অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভারতকে বন্ধুত্বের প্রমাণ দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় এলাকায় দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ১২ ডিসেম্বর ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। চুক্তিটি নবায়নের ক্ষেত্রে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ যাতে প্রাপ্য পানি পায়, সে জন্য কার্যকর নিশ্চয়তা থাকা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সরকার ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে সম্পাদিত চুক্তিতে পানিপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা-সংক্রান্ত যে ধারা ছিল, সেটিকে সামনে রেখে ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন করা উচিত। তাঁর মতে, এ ধরনের নিশ্চয়তা দুই দেশের মধ্যে আস্থা বাড়াতে সহায়তা করবে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু গঙ্গা বা ফারাক্কা চুক্তি নয়, সীমান্তজুড়ে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারতের ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত হলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এ সময় পঞ্চগড় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চুসহ সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন
এর আগে প্রতিমন্ত্রী পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় কাঠের সেতু-সংলগ্ন এলাকায় প্রস্তাবিত দ্বিতীয় করতোয়া সেতুর নির্মাণস্থান পরিদর্শন করেন। প্রায় ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সেতুটি নির্মিত হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
✍️ মন্তব্য লিখুন