
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
২০৩০ সালের মধ্যে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিনিয়ত মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা-পরবর্তী উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে সহায়তার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ও হাইওয়ে প্যাট্রোল কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, অনিয়ন্ত্রিত গতি, হেলমেট ব্যবহারে অনীহা এবং পথচারীদের অসচেতনতা। এসব সমস্যা সমাধানে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।
তিনি জানান, সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে সরকার নতুন সমন্বিত নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি চালকদের দক্ষতা উন্নয়ন, যানবাহনের মান নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।
সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় জরুরি চিকিৎসাসেবা ও হাইওয়ে টহল ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্ঘটনা কমানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন