ঢাকা প্রতিনিধিঃ প্রাণ কুমার রায়

বরিশালের গরিব ও শ্রমজীবী মানুষের কাছে পরিচিত এক নাম ডা. মনীষা চক্রবর্তী। পেশায় চিকিৎসক হলেও স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে। রিকশাচালক, অটোচালক, দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন।
মেডিকেল শিক্ষাজীবন শেষ করে ৩৪তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন ডা. মনীষা চক্রবর্তী। চাইলে সরকারি চাকরিতে থেকে নিশ্চিন্ত জীবন যাপন করতে পারতেন। তবে তিনি সে পথ বেছে নেননি। বরং সরাসরি গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। নিজে হেঁটে হেঁটে মানুষের দারে দারে গিয়ে চিকিৎসা দিয়েছেন অনেক ক্ষেত্রে বিনামূল্যে।
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি তিনি নিজের পরিচিতি, বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহার করে দরিদ্র মানুষের জন্য ওষুধ সংগ্রহ করেছেন। দানশীল ব্যক্তি ও সংগঠনের সহায়তা এনে তা সরাসরি অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন নিঃস্বার্থভাবে। এসব কাজের কারণেই স্থানীয়রা তাকে ‘গরিবের ডাক্তার’ বলে ডাকেন।
চিকিৎসাসেবক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ডা. মনীষা চক্রবর্তী পরিচিত একজন সাহসী ও প্রতিবাদী নারী হিসেবেও। নারীর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সক্রিয়ভাবে আন্দোলন করে আসছেন। তনু হত্যার প্রতিবাদে বরিশালে ছাত্র ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি, নারী নির্যাতনবিরোধী আন্দোলন, সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তাকে নিয়মিত রাজপথে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের মতে, ডা. মনীষা চক্রবর্তীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো মানুষকে সচেতন করা। নাগরিক অধিকার, নারীর অধিকার এবং চিকিৎসা যে ভিক্ষা নয় বরং একটি মৌলিক অধিকার।এই বিষয়গুলো তিনি সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় তুলে ধরেন। এ কারণেই বরিশালের অনেক গরিব ও নিপীড়িত মানুষ তাকে নিজেদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে নিঃস্বার্থভাবে সামাজিক ও চিকিৎসাসেবায় যুক্ত থাকার পর এবার তিনি বরিশাল-৫ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যারা তাকে কাছ থেকে চেনেন, তাদের মতে তিনি একজন সৎ, সাহসী ও মানুষের জন্য কাজ করা মানুষ।
জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারার মতোই ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় জায়গা করে নিচ্ছেন ডা. মনীষা চক্রবর্তী। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তিনি যেন জাতীয় পর্যায়েও আরও বেশি পরিচিত হন এবং তার মানবিক কাজের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে পারেন।
অনেকে মনে করছেন, আগামী জাতীয় সংসদে ডা. তাসনিম জারা ও ডা. মনীষা চক্রবর্তীর মতো মানুষের উপস্থিতি সময়ের দাবি কারণ তারা কথা বলেন সাধারণ মানুষের পক্ষে।
✍️ মন্তব্য লিখুন