১১:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫

ঈদের জন্য ৪০ লাখ টাকার মালামাল তুলছি, সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে : নোয়াখালী সংবাদ

ডেস্ক নিউজ

নোয়াখালী সদর উপজেলার মান্নান নগর বাজারের ১৬টি দোকান ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে। শনিবার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ব্যবসায়ীদের চোখে অন্ধকার

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের একজন মো. শাহজাহান জানান, তিনি ঈদ উপলক্ষে দোকানে ৪০ লাখ টাকার নতুন মালামাল তুলেছিলেন। আরও ৪০ লাখ টাকার পণ্য আগেই মজুত ছিল। কিন্তু আগুনে সব পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘ঋণ করে এত মাল তুলেছি, এখন কীভাবে শোধ করব কিছুই বুঝতে পারছি না। গত বছরও এই সময়ে এমন ঘটনা ঘটেছিল।’

অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরাও একই দুর্দশার মধ্যে পড়েছেন। তাঁদের দাবি, আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সঠিকভাবে নির্ধারণ করে সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।

কীভাবে আগুন লাগল?

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারের একটি চায়ের দোকানের চুলা থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে কাপড়ের দোকান, মনিহারি দোকান, চায়ের দোকান ও মুরগি বিক্রির দোকান পুড়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের অভিযান

খবর পেয়ে মাইজদী ফায়ার স্টেশনের দুটি এবং সুবর্ণচর স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। মাইজদী ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা আবদুল কাদের জানান, চায়ের দোকানের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।

পুনর্বাসন ও সহায়তার দাবি

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। ঈদ সামনে রেখে এমন দুর্ঘটনা তাঁদের দারুণ বিপাকে ফেলেছে।

প্রশাসনের বক্তব্য

স্থানীয় প্রশাসন ও বাজার কমিটির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তারা বলেন, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

এখন প্রশ্ন হলো, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কি তাঁদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন? নাকি ঈদের খুশির বদলে তাদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি সংকট নেমে আসবে?

 

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৩:৩৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫
১৩

ঈদের জন্য ৪০ লাখ টাকার মালামাল তুলছি, সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে : নোয়াখালী সংবাদ

আপডেট: ০৩:৩৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫

নোয়াখালী সদর উপজেলার মান্নান নগর বাজারের ১৬টি দোকান ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে। শনিবার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ব্যবসায়ীদের চোখে অন্ধকার

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের একজন মো. শাহজাহান জানান, তিনি ঈদ উপলক্ষে দোকানে ৪০ লাখ টাকার নতুন মালামাল তুলেছিলেন। আরও ৪০ লাখ টাকার পণ্য আগেই মজুত ছিল। কিন্তু আগুনে সব পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘ঋণ করে এত মাল তুলেছি, এখন কীভাবে শোধ করব কিছুই বুঝতে পারছি না। গত বছরও এই সময়ে এমন ঘটনা ঘটেছিল।’

অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরাও একই দুর্দশার মধ্যে পড়েছেন। তাঁদের দাবি, আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সঠিকভাবে নির্ধারণ করে সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।

কীভাবে আগুন লাগল?

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারের একটি চায়ের দোকানের চুলা থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে কাপড়ের দোকান, মনিহারি দোকান, চায়ের দোকান ও মুরগি বিক্রির দোকান পুড়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের অভিযান

খবর পেয়ে মাইজদী ফায়ার স্টেশনের দুটি এবং সুবর্ণচর স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। মাইজদী ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা আবদুল কাদের জানান, চায়ের দোকানের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।

পুনর্বাসন ও সহায়তার দাবি

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। ঈদ সামনে রেখে এমন দুর্ঘটনা তাঁদের দারুণ বিপাকে ফেলেছে।

প্রশাসনের বক্তব্য

স্থানীয় প্রশাসন ও বাজার কমিটির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তারা বলেন, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

এখন প্রশ্ন হলো, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কি তাঁদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন? নাকি ঈদের খুশির বদলে তাদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি সংকট নেমে আসবে?